২০২৪ সালে ১১টি ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা আইডিয়া , প্রচুর লাভ ।

আপনি কি ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন ? তাহলে এই আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্য।

বর্তমান এই আধুনিক যুগে সকলে ব্যবসা করতে চায়। সফল একজন উদ্যোক্ত হতে চায়। কিন্তু পুজি বেশি না থাকার কারণে সাহস পায় না ব্যবসা শুরু করতে।

টেনশনের কোন কারণ নেই। আপনার বাজেট যদি পঞ্চাশ হাজারের মধ্যে হয়ে থাকে।

তাহলে বর্তমান সময়ে চমৎকার চমৎকার অনেক ব্যবসা রয়েছে। যে ব্যবসাগুলো করে সফল একজন উদ্যোক্তা হতে পারবেন।

আমি আজ আপনাদের সুবিধার্থে ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তথ্য দিবো। পাশাপাশি অনেকগুলো খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরব।

যাতে করে খুব দ্রুত সফলতা লাভ করতে পারেন। অবশ্যই এই লেখাটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। আশা করি খুব দ্রুত সফলতা লাভ করতে পারবেন।

৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা

৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা আইডিয়া ২০২৪

এখানে আমি ঐ সমস্ত ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করব যে ব্যবসাগুলো বর্তমানে খুবই লাভজনক।

তাই অবশ্যই আপনাকে ধৈর্যের সাথে ব্যবসা করে যেতে হবে। পাশাপাশি সুক্ষ সুক্ষ বিষয়গুলো ফলো করতে হবে। আশা করি সফলতা লাভ করতে পারবেন। চলূন আলোচনা শুরু করা যাক।

১. পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা

বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। কবুতর , হাঁস, মুরগি , কোয়েল পাখি এ প্রত্যেকটি পোল্টি হিসেবে ধরা হয়। মুরগির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

কেননা গ্রিল থেকে শুরু করে নানান মজাদার মজাদার খাবার তৈরি করা এই মুরগি দিয়ে। পাশাপাশি সরাসরি রান্না করে খেতে ও পছন্দ করে অধিকাংশ।

মোট কথা বর্তমান সময়ে মুরগির চাহিদা প্রচুর। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই খুব কম। তাই এই সুযোগটি আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে খুব সহজে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। যখন ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হবে তখন পুঁজি আরো বাড়াতে পারেন।

পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা করার নিয়ম

  • সর্বপ্রথম আপনাকে একটি ছোটখাটো খামার তৈরি করতে হবে।
  • খামার তৈরি করার জন্য বর্তমান বাজার রেটে মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • পোল্ট্রির বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। এখানে মোটামুটি ২৫০-৩০০ বাচ্চার জন্য ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • পোল্টির খাবার সংগ্রহ করতে হবে। মোটামুটি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে।
  • আরো আনুষঙ্গিক দুই তিন হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

এভাবে মোটামুটি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে খুব সহজেই এই ব্যবসাটি করতে পারবেন। একটি এক কেজি মুরগি তৈরি করতে বর্তমান বাজার রেটে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা খরচ হতে পারে।

আর এটা কে আপনি পাইকারি রেটে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দিয়ে বিক্রি করবেন। এই হিসেবে ২৫০ টি ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত খাবার সহ ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এখান থেকে আপনি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন এই ব্যবসায় লাভ অনেক বেশি। তবে আপনি ইচ্ছা করলে ঐ সমস্ত মুরগি লালন পালন করতে পারেন যে সমস্ত মুরগি ডিম দেয়। কেননা এ সমস্ত মুরগিতে লাভ বেশি।

অনেকদিন পর্যন্ত ডিম বিক্রি করতে পারবেন। ডিম দেওয়া বন্ধ করে দিলে মুরগি বিক্রি করে দিবেন।

মুরগির পাশাপাশি হাঁসের ফার্ম দিতে পারেন। কেননা হাঁস এবং হাসের ডিমের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সাপ্লাই অনেক কম।

এগুলোর পাশাপাশি কবুতরের ফার্ম দিতে পারেন। কবুতরেরও অনেক চাহিদা রয়েছে।
উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটি নিয়ে একটি ফার্ম দিতে পারেন অথবা যে কোন একটি নিয়ে ফার্ম দিতে পারেন। আপনার ইচ্ছা। তবে প্রত্যেকটির মধ্যে লাভবান হতে পারবেন।

২. ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হলো কোয়েল পাখির খামার দেওয়া ।

এ পাখিটি অনেক জনপ্রিয়। অধিকাংশ মানুষ কোয়েল পাখির গোস্ত এবং ডিম খেতে অনেক পছন্দ করেন। কেননা কোয়েল পাখির ডিম এবং গোস্ত উভয়টি অনেক মজাদার।

কোয়েল পাখির ডিম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। এর দ্বারা হাঁপানি , ডায়াবেটিক, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে খুবই সহায়তা করে।

এজন্য অধিকাংশ মানুষ কোয়েল পাখির ডিম পছন্দ করে। কোয়েল পাখির মাংস অনেক পুষ্টিকর। কেননা এটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

এ সমস্ত কারণে কোয়েল পাখি এবং তার ডিমের অনেক চাহিদা রয়েছে। দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলছে।

অতএব এ ব্যবসাটি আপনি খুব সহজেই অল্প পুঁজি অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

কেন কোয়েল পাখির খামার দেবেন ?

  • কোয়েল পাখি যেহেতু অনেক ছোট। তাই এদের জায়গা অনেক কম লাগে।
  • এদের খাবার অনেক কম লাগে। তাই খাবারের খরচ কম।
  • এরা মাত্র ছয় থেকে সাত সপ্তাহ বয়সে ডিম দেওয়া আরম্ভ করে দেয়।
  • কোয়েল পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।
  • অল্প পুঁজি দিয়েই এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি শ্রম অনেক কম।
  • এরা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় ।
  • কোয়েল পাখি খুবই শক্তিশালী একটি পাখি। এদের রোগ কম হয়। এই কারণে ঝামেলা নেই।
  • কোয়েল পাখি বছরে ৩০০ এর বেশি ডিম দেয়।

কোয়েল পাখির খামার দেওয়ার নিয়ম :

  1. কোয়েল পাখির মধ্যে অনেক জাত রয়েছে। এই কারণে আপনাকে সর্ব প্রথম সঠিক জাতের কোয়েল পাখি নির্বাচন করতে হবে। কোয়েল পাখির প্রায় ১৮টি জাত রয়েছে। এ কারণে আপনাকে প্রথমত জাত নির্বাচন করতে হবে।
  2. এরপর আপনাকে খুবই গুরুত্বসহকারে ঘর নির্মাণ করতে হবে। কেননা ঘর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। খাঁচার পদ্ধতিতে কয়েল পালন করা অনেক সহজ। এখানে সমস্যা অনেক কম। এমন একটি ঘর নির্মাণ করুন যেখানে সব সময় বাতাস আসা যাওয়া করবে পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ আলো থাকবে।
  3. খাঁচা তৈরি করার জন্য তারের জাল ব্যবহার করতে পারেন।
  4. ১২০ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ৬০ সেমি প্রশস্ত এবং ২৫ সেমি উচ্চতা দিয়ে একটি খাঁচা তৈরি করতে পারেন। যেখানে মোটামুটি ৫০টি পাখি লালন পালন করা যেতে পারে।
  5. সব সময় বিড়াল ইদুর থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
  6. ডিম উৎপাদনের জন্য আলো অনেক প্রয়োজন। এই কারণে ১০০ ওয়াটের বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন।
  7. ভালো ডিম উৎপাদনের জন্য ভালো জাতের কয়েল নির্বাচন করুন।
  8. কোয়েল পাখির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিতভাবে সুসম ফিট প্রদান করুন। প্রাপ্তবয়স্ক একটি কোয়েল প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ গ্রাম পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকে। খাবারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

অতএব উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিতে কোয়েল পাখি লালন পালন করে খুব সহজেই পরিমাণ লাভবান। কোয়েল পাখির ডিম এবং কোয়েল পাখি বিক্রি করতে পারবেন।

ইচ্ছা করলে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবেন। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই বসে না থেকে এই চমৎকার ব্যবসাটি আজই শুরু করে দিন।

৩. মাছ চাষ করতে পারেন ।

আমাদের দেশে বাস মাছ অনেক চাহিদা পূর্ণ খাদ্য। সকলে মাছ খেতে অনেক পছন্দ করে। কেননা আমাদেরকে মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয়।

অত এব এর চাহিদা কখনো কমবে না। মাছ চাষ অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব। অতএব আপনি খুব সহজে-ই ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে এই চমৎকার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

মাছ চাষ করার নিয়ম

  1. একটি পুকুর নির্বাচন করতে হবে। পুকুরটি যেন খোলামেলা হয়। রৌদ্র ও আলো পৌঁছে। এটেল মাটি অনেক উপকারী। পাশাপাশি পুকুরের আয়তন কমপক্ষে 10 শতাংশ হতে হবে। গভীরতা কমপক্ষে দুই থেকে তিন মিটার রাখতে হবে। যদি আগে তৈরি থাকে তো ভালো। অন্যথায় তৈরি করতে মোটামুটি দশ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  2. মানসম্মত ও রোগমুক্ত পোনা সংগ্রহ করতে হবে। এখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। অবশ্যই সঠিক নিয়মে  পরিবহন করতে হবে।
  3. মাছের খাবার সংগ্রহ করতে হবে। অবশ্যই সঠিক পুস্টিমান সম্পন্ন খাবার সংগ্রহ করতে হবে। এতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে।


এভাবে মোটামুটি ৫০০০০ টাকা দিয়ে খুব সহজেই চমৎকারভাবে মাছ চাষ করতে পারবেন।
যদি সঠিক নিয়মে ভালোভাবে যত্ন করে মাছ চাষ করতে পারেন ।

তাহলে ৫০০০০  টাকা ইনভেস্ট করে এক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। অতএব দেরি না করে আজই এই লাভজনক ব্যবসাটি শুরু করে দিন।

৪. কফি শপের ব্যবসা করুন ।

কফি খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। কফির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে এই চমৎকার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

এ ব্যবসাটি  ঝামেলা মুক্ত। অল্প সময়ে সফলতা লাভ করা সম্ভব। অল্প পুঁজি ব্যয় করে প্রচুর লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই দেরি না করে আজই শুরু করে দেন।

কফি শপের ব্যবসা জন্য যে সমস্ত বিষয় প্রয়োজন হবে :

  • চমৎকার একটি স্থান। যে স্থানে লোক সমাগম বেশি হবে। যেমন : রেল স্টেশন, বাস স্টান , বাজার , শহর, উপশহর ইত্যাদি।
  • মজাদার কফি তৈরি করার জন্য মেশিন ক্রয় করতে হবে। এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • চমৎকার একটি দোকান বাছাই করতে হবে। পাশাপাশি দোকানকে একটু সাজাতে হবে। যাতে দেখতে খুবই আকর্ষণীয় লাগে। এক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • কফি দেওয়ার জন্য ওয়ান টাইম কাপ ইত্যাদি ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

এভাবে মোটামুটি ৫০০০০ টাকার পুঁজি নিয়ে এই চমৎকার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। অবশ্যই এ ব্যবসায় সফলতা লাভ করার জন্য মজাদার কফি তৈরি করতে হবে।

কফির মধ্যে ইউনিকতা তৈরি করতে হবে। এতে গ্রাহকরা খুবই আকর্ষিত হবে। ফলে খুব দ্রুত সফলতা লাভ করতে পারবেন।

৫. ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হলো বাচ্চাদের খেলনা উৎপাদন করা।

ছোট শিশুরা খেলনা খুবই পছন্দ করে। খেলনা-ই কেমন যেন তাদের নিত্য দিনের সাথী। খেলনা ছাড়া শিশুরা কিছুই বুঝে না।

বাইরে খেলাধুলা করার থেকে ঘরে বসে খেলনার সাথে খেলাধুলা করতে খুবই পছন্দ করে। দিন দিন এ ধরনের খেলার প্রতি আগ্রহ বেড়েই চলছে।

এই কারণে খেলনার প্রতি চাহিদা বেড়েই চলছে। অতএব এই সময়ে অল্প পুজি তথা ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে খেলনা উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করে দিন।

খুব অল্প সময়ে অনেক লাভবান হতে পারবেন। বর্তমানে অধিকাংশ খেলনা তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। অতএব আপনিও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে খেলা তৈরি করতে পারেন।

সাধারণত প্লাস্টিক দিয়ে যে সমস্ত খেলা তৈরি করা হয়:

  • বল
  • উড়োজাহাজ
  • খেলনা মোবাইল
  • গাড়ি
  • খেলনা বন্দুক ইত্যাদি।

প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি খেলনা খুব শক্ত হয়। সহজে ভাঙ্গে না। আর এগুলো খুব কম দামে পাওয়া যায়। এই কারণে এ সমস্ত খেলনার চাহিদা বেশি।

যা যা প্রয়োজন হবে খেলনা তৈরি করার জন্য :

  • ডাইস
  • হাত পাম্প
  • মার্লেস পাউডার
  • এল গাথেন পাউডার
  • চায়না রং
  • ব্যাগ
  • পি পি পাউডার
  • রিপিট
  • স্ট্যাম্প মেশিন

ইত্যাদি এ জাতীয় পণ্য লাগবে খেলনা তৈরি করার জন্য। এ সমস্ত পণ্যগুলো রাসায়নিক ও হার্ডওয়ার দ্রব্য বিক্রির দোকানে খুব সহজে পাওয়া যাবে। অবশ্যই খেলনা তৈরি করার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো : অবশ্যই আপনাকে খেলনা তৈরি করার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। অথবা অভিজ্ঞ কোন লোকের মাধ্যমে খেলনা তৈরি করাতে হবে।

অতএব আপনি 50000 টাকার পুঁজি নিয়ে খুব সহজেই এই চমৎকার ব্যবসাটি আজই শুরু করে দিতে পারেন। লাভের চিন্তা করতে হবে না । কেননা এ ব্যবসায় লাভ অনেক বেশি।

আরো পড়ুন বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার ১৬টি আইডিয়া ২০২৪

৬. গিফট শপের ব্যবসা করতে পারেন ।

আপনজনকে গিফট দেওয়া সকলের পছন্দনীয়। এই ব্যবসার চাহিদা বর্তমান অনেক বেড়ে গিয়ে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে এই ব্যবসাটি আজই শুরু করে দিন।

এই ব্যবসা করার জন্য যা যা প্রয়োজন হবে :

  • মার্কেট নিয়ে গবেষণা করতে হবে। ক্রেতাদের পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সম্পর্কে জানতে হবে। এতে খুব দ্রুত সফলতা লাভ করা যাবে।
  • চমৎকার একটি স্থানে দোকান নির্বাচন করতে হবে। যে স্থানে লোক সমাগম বেশি হবে। যেমন : রেল স্টেশন, বাস স্টান , বাজার , শহর, উপশহর ইত্যাদি।
  • দোকানকে আকর্ষণিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
  • গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আনকমন গিফট সংগ্রহ করতে হবে।
  • উন্নত মানের গিফট সংগ্রহ করতে হবে।

উপরের পদ্ধতিতে ব্যবসা শুরু করলে খুব দ্রুত সফলতা লাভ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে লাভবান হতে পারবেন।

৭. ছাগলের খামার দিতে পারেন ।

ছাগলের গোস্ত খুবই জনপ্রিয়। এই কারণে ছাগলের চাহিদা অনেক বেশি। অতএব আপনি ছাগল লালন পালন করে খুব সহজে বিক্রি করতে পারেন।

এজন্য আপনি একটি ছাগলের খামার দিতে পারেন। ছাগল লালন পালন করা খুব সহজ। লাভ অনেক বেশি।

ছাগল লালন পালনের জন্য যা যা প্রয়োজন :

  • সর্বপ্রথম আপনাকে ছাগল লালন পালনের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এতে নানান ধরনের অসুবিধা থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন।
  • ছাগল রাখার জন্য ঘর তৈরি করতে হবে। এতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • ১০ থেকে ১২ টি ছাগলের বাচ্চা ক্রয় করতে হবে। এখানে মোটামুটি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
  • খাবার সহ অন্যান্য খরচ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা হতে পারে।

এভাবে ৫০ হাজার টাকার পুজি নিয়ে খুব সহজে ছাগলের খামার দিতে পারেন। তবে অবশ্য আপনাকে সব সময় চোখ কান খোলা রাখতে হবে। যাতে করে খুব সহজে নানান ধরনের অসুবিধা থেকে বেঁচে থাকতে পারেন।

৮. মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা ।

ছোট থেকে বড় সকলেরই মোবাইল রয়েছে। এই কারণে সকলেই কথা বলার জন্য মোবাইলে রিচার্জ করে থাকে। এই ব্যবসাটি খুবই লাভজনক।

কেননা কোম্পানি রিচার্জের জন্য ভালো পরিমাণ কমিশন দিয়ে থাকেন । পাশাপাশি  কোম্পানি নানান সময়ে বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে। এতে দ্বিগুণ লাভ হয়। তাই দেরি না করে আজ-ই ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে এই চমৎকার ব্যবসাটি শুরু করে দিতে পারেন।

এই ব্যবসা করার নিয়ম:

  • রিচার্জ করার জন্য ভালো মানের মোবাইল রাখতে হবে।
  • চমৎকার স্থান নির্বাচন করতে হবে । যে স্থানে লোক সমাগম বেশি হবে। যেমন : রেল স্টেশন, বাস স্টান , বাজার , শহর, উপশহর ইত্যাদি।
  • কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে রিচার্জ গ্রহণ করতে হবে।
  • রিচার্জের পাশাপাশি নগদ , বিকাশ , রকেট , উপায় ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে টাকা-পয়সা লেনদেন করার ক্ষেত্রে এ সমস্ত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে থাকে। তাই এই ব্যবসাটি খুবই চাহিদা পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশা করি আপনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

৯. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর ব্যবসা

বর্তমান সময়ে  ছোটখাটো বিষয়ের জন্য অনুষ্ঠান করে থাকে। বিশেষ করে জন্মদিন , বিয়ে সাদী , বিভিন্ন পার্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করে থাকে অনেকে।

এজন্য তারা অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাজানো নির্দিষ্ট একটি ম্যানেজমেন্টকে দিয়ে থাকে। এই ব্যবসাটি খুবই চাহিদা পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজই  শুরু করে দিন।

এই ব্যবসা করার জন্য যা যা প্রয়োজন হবে:

  • ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর জন্য।
  • অনুষ্ঠানকে সাজানোর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় করতে হবে।
  • পরিশ্রমী কিছু লোকের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে বেতন দিতে হবে।
  • ভালোভাবে প্রচার করতে হবে। যাতে করে খুব সহজে প্রসিদ্ধি লাভ করতে পারেন।

এই ব্যবসাটি মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা সম্ভব। ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে হবে।

এভাবে নিয়মিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর কাজ পেতে থাকলে প্রতিমাসে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

১০. ই-কমার্স এর ব্যবসা করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে মানুষ অনলাইনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছে। অনলাইন থেকে কেনাকাটা করতে খুবই পছন্দ করে। দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলছে। অতএব এই সুযোগটি আপনি কাজে লাগাতে পারেন। ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে ই-কমার্স এর ব্যবসা করতে পারেন।

এ ব্যবসা করার নিয়ম :

সর্বপ্রথম আপনাকে মার্কেট নিয়ে গবেষণা করতে। দেখতে হবে গ্রাহক কোন পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেশি। ঐ সমস্ত পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

  • প্রতিযোগীদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের প্রত্যেকটি পদক্ষেপ ফলো করতে হবে।
  • গ্রাহকদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
  • আনকমন এবং আকর্ষণীয় প্রোডাক্ট গ্রহণ করতে হবে।
  • ডেলিভারি ব্যবস্থা ভালো করতে হবে।

উপরের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে ব্যবসার শুরু করলে খুব সহজেই সফলতা লাভ করতে পারবেন।

১১. খাবার ডেলিভারির ব্যবসা করতে পারেন ।

মানুষ আগের মতো হোটেলে তৈরি খাবার পছন্দ করে না। ঘরোয়া খাবার অনেক পছন্দ করে। দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলছে। অতএব আপনি আকর্ষণে আকর্ষণীয় খাবার তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।

এ ব্যবসা করার নিয়ম হলো: 

আকর্ষণীয় মজাদার খাবার তৈরি করতে হবে। যাতে করে একবার খেলে দ্বিতীয়বার আবার খেতে মন চায়।

  • আনকম ও আকর্ষণীয় আইটেমের খাবার তৈরি করতে হবে।
  • ভালোভাবে মার্কেটিং করতে হবে। যাতে করে খুব সহজেই আপনি গ্রাহকদের কাছে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এতে করে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
  • সব সময় উন্নত মানের খাবার তৈরি করার চেষ্টা করবেন।
  • সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। ডেলিভারি ব্যবস্থা ভালো রাখবেন।

উপরের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খুব সহজে সফলতা লাভ করতে পারবেন। তাই দেরী না করে আজই শুরু করে দেন ।

পরিশেষে বলবো :

উপরে ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা সম্পর্কে কয়েকটি ধারণা দিলাম। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন। তাই বসে না থেকে উপরের যে কোন একটি ব্যবসা আজই শুরু করে দিতে পারেন। প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ।

আমি সবসময় নতুন জিনিস শিখতে এবং ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করি। তাই সকল ধরনের বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কিত নতুন বিষয় তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment